بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
এক.
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত সম্পর্কে একটি হাদীস খুব বেশি প্রচলিত, “যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়বে, তার জন্য ৭০,০০০ ফেরেশতা রহমতের দুয়া করবে।” এই হাদীসটা সহীহ নয়, এই হাদীস জয়ীফ। আর সম্মিলিত ভাবে ইমাম সাহেবের সাথে সুর মিলিয়ে, সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করা সহীহ হাদীস তো দূরের কথা জাল হাদিসেও নাই । তবে একাকী ভাবে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়ার এই হাদীস সহীহ না হলেও, আমি প্রতিটা মুসলমান ভাই এবং বোনদেরকে উৎসাহিত করবো, আপনারা আল্লাহর ক্বালাম থেকে অত্যন্ত সুন্দর এবং সহজ এই তিনটা আয়াত মুখস্থ করবেন এবং নামাযের ভেতরে ও বাহিরে নিয়মিত নিজে নিজে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন। কারণ, এই তিনটি আয়াতে আল্লাহ সুবহা’নাহু তাআ’লার তাওহীদের পরিচয় এবং ১৫-টি আসমাউল হুসনা (আল্লাহর সুন্দর নাম) বর্ণিত হয়েছে।
_______________________________
দুই.
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত কখন পড়বেন?
(১) আপনারা যেকোন নামাযে সুরা ফাতেহার পর সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত ক্বিরাত হিসেবে পড়তে পারেন। ইচ্ছা করলে এক রাকাতেই পুরো তিন আয়াত পড়তে পারেন অথবা ব্যস্ততা, ক্লান্তি বা সময় স্বল্পতার কারণে নামায সংক্ষিপ্ত করতে চাইলে, প্রথম রাকাতে দুই আয়াত এবং দ্বিতীয় রাকাতে শেষের আয়াত পাঠ করতে পারেন।
(২) রাতের বেলা কিংবা ঘুমানোর পূর্বে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পড়তে পারেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের বেলা “মুসাব্বিহাত” সুরাগুলো তিলাওয়াত করতেন, আর এই সুরাগুলোর মাঝে সুরা হাশর অন্তর্ভুক্ত। যারা সুরা হাশর সম্পূর্ণ পড়তে না পারেন, তারা অন্তত সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করার চেষ্টা করবেন।
_______________________________
দলীল নং-১
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بِلاَلٍ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، رضى الله عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ الْمُسَبِّحَاتِ وَيَقُولُ " فِيهَا آيَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ آيَةٍ " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম “মুসাব্বিহাত” সুরাগুলো তিলাওয়াত না করা পর্যন্ত ঘুমাতেন না। তিনি বলতেন, “এই (সুরাগুলোর মাঝে) এমন একটি আয়াত আছে, যা এক হাজার আয়াত হতে শ্রেষ্ঠ।”
সুনানে আত-তিরমিযীঃ ৩৪০৬। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, হাদীসটি হাসান।
_______________________________
দলীল নং-২
وَرَوَاهُ الدَّارِمِىُّ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ مُرْسَلًا وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
ইমাম দারিমী রহি’মাহুল্লাহ একই হাদীস ভিন্ন সনদে মুরসাল হিসেবে খালিদ ইবনু মাঅ’দান রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণনা করেছেন। মিশকাত আল-মাসাবীহঃ ২১৫২, দারিমী ৩৪২৪। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব। শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
হাদীসের ব্যাখ্যাঃ
(ক) “মুসাব্বিহাত” সুরা কোনগুলো?
শায়খ উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, মুসাব্বিহাত ঐ সমস্ত সূরাগুলোকে বলা হয়, যার শুরুতে “সাব্বাহা লিল্লা-হি...” অথবা “ইউসাব্বিহূ লিল্লা-হি...” শব্দ ব্যবহার হয়েছে অথবা “সুবহা-না...” শব্দ ব্যবহার হয়েছে অথবা, এর দ্বারা গঠিত আদেশবাচক শব্দ ব্যবহার হয়েছে। এ জাতীয় সুরাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুরা বনী ইসরাঈল, সুরা আল-হাদীদ, সুরা আল-হাশর, সুরা-সফ, সুরা জুমুআ’হ, সুরা আত-তাগাবুন এবং সুরা আল-আ’লা।” মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতুল মাসাবীহ, শায়খ উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী রহি’মাহুল্লাহ।
(খ) এ সুরাগুলোর মধ্যে এমন একটি আয়াত রয়েছে, যা হাজার আয়াত অপেক্ষাও উত্তম। সেই আয়াত কোনটি?
শায়খ উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “এ নিয়ে আলেমদের বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
কেউ বলেছেন, সেই ফাযীলাতপূর্ণ আয়াতটি হচ্ছে,
لَوۡ أَنزَلۡنَا هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ عَلَىٰ جَبَلٖ لَّرَأَيۡتَهُۥ خَٰشِعٗا مُّتَصَدِّعٗا مِّنۡ خَشۡيَةِ ٱللَّهِۚ وَتِلۡكَ ٱلۡأَمۡثَٰلُ نَضۡرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمۡ يَتَفَكَّرُونَ٢١
অর্থঃ আমি যদি এই ক্বুরআনকে কোন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তুমি আল্লাহর ভয়ে সেই পাহাড়কে অবশ্যই বিনীত ও বিদীর্ণ হয়ে যেতে দেখতে। এ সব উদাহরণ আমি মানুষের জন্য বর্ণনা করি, যাতে তারা (নিজেদের ব্যাপারে) চিন্তা-ভাবনা করে। সুরা আল-হাশরঃ ২১।
এ আয়াতটি আল্লাহ তা‘আলার ইসমে আ’যমের ন্যায়, যা অন্যান্য নামের উপর বিশেষ মর্যাদা রাখে।
ইমাম ইবনে কাসীর রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “সেই আয়াতটি হচ্ছেঃ
﴿هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ﴾
অর্থঃ তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনি প্রকাশিত আবার গুপ্ত, তিনি সকল বিষয় পূর্ণরূপে জ্ঞাত। সুরা আল-হাদীদঃ ৩।
মুল্লা আ’লী কারী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “সেটা হচ্ছে ঐ আয়াত, যার শুরুতে আত-তাসবীহ রয়েছে।”
আ’ল্লামা ত্বীবী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “এ আয়াতটি লায়লাতুল ক্বদরের ন্যায় এবং জুমুআ’হর দিনে দুয়া কবুল হওয়ার মোক্ষম মুহূর্তের ন্যায় গোপন রাখা হয়েছে, যাতে করে মানুষ তা পাওয়ার আশায় সবই তিলাওয়াত করে ফেলে।”
মিরআতুল মাফাতীহ শারহু মিশকাতুল মাসাবীহ, শায়খ উবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী রহি’মাহুল্লাহ।
(এ ব্যাপারে আল্লাহই সবচাইতে ভালো জানেন।)
_______________________________
(৩) কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব এবং বরকতের আশায় সকালে ও সন্ধ্যায় সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াত করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে, এই তিনটা আয়াত পড়লে তার জন্য ৭০,০০০ ফেরেশতা দুয়া করবেন, এই কথাটার উপর বিশ্বাস না রেখে শুধুমাত্র ক্বুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব ও বরকত লাভের নিয়তে পড়া যাবে।
দলীল -
প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াত করার ব্যাপারে সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন সহীহ হাদীস নেই। তবে এ ব্যাপারে প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হাসান আল-বসরী রহি’মাহুল্লাহ থেকে একটি আসার বর্ণিত হয়েছে, যার সনদ সহীহ।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ مَنْ قَرَأَ ثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْحَشْرِ إِذَا أَصْبَحَ فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ ذَلِكَ طُبِعَ بِطَابَعِ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ قَرَأَ إِذَا أَمْسَى فَمَاتَ مِنْ لَيْلَتِهِ طُبِعَ بِطَابَعِ الشُّهَدَاءِ
হাসান আল-বসরী রহি’মাহুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি সকালবেলা সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করে, সে যদি সেই দিন মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তাকে শাহাদাতের সীল (বা টিকেট) প্রদান করা হবে। আর যদি সন্ধ্যায় তা পাঠ করে, সে যদি সেই রাতে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তাকে শাহাদাতের সীল প্রদান করা হবে।”
তাখরীজঃ সুনানে আদ-দারেমীঃ ৩৪৬২। ইবনু যরীস, ফাযাইলুল ক্বুরআনঃ ২২৭। জালাল উদ্দিন সুয়ূতী, দুররে মানসুরঃ ১/২০২-তে ইমাম আদ-দারেমীর প্রতি সম্বোন্ধিত করেছেন।
তাহক্বীক্বঃ এর সনদ হাসান রহি’মাহুল্লাহ পর্যন্ত সহীহ।
_______________________________
তিন.
যারা মুখস্থ করতে চান তাদের জন্য সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত, উচ্চারণ এবং বাংলা অনুবাদ দেওয়া হলো।
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيطَانِ الرَّجِيمِ
উচ্চারণঃ আ’উযু বিল্লাহিমিনাশ-শাইতানির রাযীম।
অর্থঃ বিতাড়িত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(২২)
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণঃ হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা- ইলাহা ইল্লাহু; আ’লিমুল গাইবি ওয়াশ-শাহাদাহ। হুওয়ার রহ’মানুর রহী’ম।
অর্থঃ তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী। তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু।
(২৩)
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ
উচ্চারণঃ হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা ইলাহা ইল্লাহু। আল-মালিকুল কুদ্দুসুস-সালামুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল আ’জিজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। সুবহা’নাল্লাহি আ’ম্মা ইউশরিকুন।
অর্থঃ তিনিই আল্লাহ; যিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন উপাস্য নেই। তিনিই বাদশাহ, অতি পবিত্র, পূর্ণ শান্তিময়, নিরাপত্তা দানকারী, প্রতাপশালী, পর্যবেক্ষক, মহা পরাক্রমশালী, অপ্রতিরোধ্য, প্রকৃত গর্বের অধিকারী। মুশরিকরা যাকে (তাঁর) শরীক সাব্যস্ত করে, তাত্থেকে তিনি পবিত্র, মহান।
(২৪)
هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاء الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
উচ্চারণঃ হুওয়াল্লা-হুল খলিক্বুল বা-রিউল মুছাওয়্যিরু লাহুল আসমাউল হু’সনা। ইউসাব্বিহু’ লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব, ওয়া হুয়াল আ’জিজুল হা’কিম।
অর্থঃ তিনিই আল্লাহ সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবনকারী, আকার আকৃতি দানকারী। সমস্ত উত্তম নামের অধিকারী তিনি। আসমান ও যমীনে যা আছে, সবকিছু তাঁর গৌরব ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি প্রবল পরাক্রান্ত, মহা প্রজ্ঞাবান।
_______________________________
=> বিঃদ্রঃ
(১) যারা আরবি পড়তে জানেন, তারা আরবী দেখে মুখস্থ করবেন। কিন্তু যারা আরবী পারেন না, তারা অন্য কারো কাছ থেকে শুনে শুদ্ধ উচ্চারণ জেনে নিবেন। আপনারা ভালো ক্বারীদের থেকে শুনে শুনে আপনার উচ্চারণ শুদ্ধ করতে পারেন। শুধুমাত্র বাংলা উচ্চারণ থেকে শুদ্ধ উচ্চারণ শিখা যায়না, উচ্চারণ শুদ্ধ না হলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। সেইজন্য শুদ্ধ উচ্চারণে ক্বুরআন তিলাওয়াত শেখা সবার জন্য ফরয।
(২) এই আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর নাম সমূহ আপনারা অর্থসহ মুখস্থ করার চেষ্টা করবেন। আসমাউল হুসনাসমূহের অর্থ নিয়ে আমি পরবর্তীতে পোস্ট দিবো ইন শা আল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তোওফিক দান করুন, আমিন।
_______________________________
চার.
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত সম্পর্কে প্রচলিত হাদীস এবং তার তাহক্বীকঃ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ طَهْمَانَ أَبُو الْعَلَاءِ الْخَفَّافُ حَدَّثَنِي نَافِعُ بْنُ أَبِي نَافِعٍ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَثَلَاثَ آيَاتٍ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْحَشْرِ وَكَّلَ اللَّهُ بِهِ سَبْعِينَ أَلْفَ مَلَكٍ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ قَالَهَا مَسَاءً فَمِثْلُ ذَلِكَ حَتَّى يُصْبِحَ
অর্থঃ মা’কিল ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘আ’উযু বিল্লাহিস্ সামি’য়ি্ল আলিমি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম’ পাঠ করবে এবং (এরপর) সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ্ তাআ’লা তার জন্য সত্তর হাজার ফিরিশতা নিযুক্ত করে দেন, যাঁরা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য রহমতের দুয়া করতে থাকেন। আর যদি সে সন্ধ্যায় পাঠ করে তবুও সে সকাল পর্যন্ত অনুরূপ (ফযীলত) পেতে থাকবে।”
তাখরীজঃ এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে (১) সুনানে আত-তিরমিযীঃ ছাওবুল কুরআন অধ্যায়, হাদীস নং ২৯২৩। (২) মুসনাদে আহমাদঃ ৫/২৬। (৩) ইবনুস সুন্নী, আমালুল ইয়ামি ওয়াল লাইল অধ্যায়, হাদীস নং ৮০। (৪) ইবনু যরীস, ফাযাইলুল কুরআন অধ্যায়, হাদীস নং ২৩০। (৫) তাবারাণী, কাবীর ২০/২২৯, হাদীস নং ৫৩৭। (৬) কিতাবুদ দুয়াঃ ৩০৮। (৭) ইমাম বাইহাকীর “শুয়াবুল ঈমান”, হাদীস নং ২৫০২। (৮) সুনান আদ-দারেমী ৩৪৬৪।
তাহক্বীক্বঃ
(১) ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এই হাদীস জেনেছি।” সুনানে আত-তিরমিযীর ২৯২৩-নং হাদীসের টীকা।
(২) এই হাদীসের সনদে খালিদ ইবনে তাহমান নামক একজন রাবী রয়েছেন। তার সম্পর্কে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “তিনি একজন সত্যবাদী (সুদুক্ব) রাবী। কিন্তু তিনি শীয়া হয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযুক্ত, শীয়া হওয়ার পর তিনি (হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে) উল্টা-পাল্টা করে ফেলেছিলেন।” তাক্বরীব আল-তাহযীবঃ ১৬৪৪।
(৩) শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “এই হাদীসের সনদ যয়ীফ। কেনন, এই হহাদীসের একজন রাবী হচ্ছেন নাফি’ ইবনু আবী নাফি’ তিনি বাযযার নন, বরং তিনি হচ্ছেন নাফী’ ইবনুল হারিছ আল-আ’মা, তার যয়ীফ হওয়া সম্পর্কে সকলেই একমত।” তা’লীকুর রাগীবঃ ২/২২৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৭৯, য‘ঈফ আল জামি ৫৭৩২।
_______________________________
