আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় নবি ইবরাহিমের (আ.) প্রতিষ্ঠিত মসজিদুল হারামে নামাজ আদায় করতেন। মক্কা ছেড়ে হিজরতের সময় মদিনায় পৌঁছার আগেই কুবায় যাত্রাবিরতিকালে সেখানে তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন যা মসজিদে কুবা নামে প্রসিদ্ধ। মদিনায় পৌঁছে নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে নববি প্রতিষ্ঠা করেন। নিয়মিত নামাজ আদায়, দীনি তালিম-তরবিয়ত ছাড়াও এই মসজিদটি থেকেই তিনি মদিনার প্রশাসনিক সব কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
কোরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে মসজিদের মর্যাদা, গুরুত্ব ও ফজিলত, মসজিদ নির্মাণকারীদের মর্যাদা বোঝা যায়। এখানে আমরা কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করছি।
মসজিদ নির্মাণ নবিদের কাজ
কোরআনে আল্লাহ তার নবি ও খলিল ইবরাহিমের (আ.) কাবা ও মসজিদুল হারাম নির্মাণের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। যে কাজের তত্ত্বাবধান করেছেন, দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা স্বয়ং। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ اِذۡ جَعَلۡنَا الۡبَیۡتَ مَثَابَۃً لِّلنَّاسِ وَ اَمۡنًا وَ اتَّخِذُوۡا مِنۡ مَّقَامِ اِبۡرٰهٖمَ مُصَلًّی وَ عَهِدۡنَاۤ اِلٰۤی اِبۡرٰهٖمَ وَ اِسۡمٰعِیۡلَ اَنۡ طَهِّرَا بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡعٰکِفِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِআর স্মরণ কর, যখন আমি কাবাকে মানুষের জন্য মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং বললাম ‘তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থানরূপে গ্রহণ কর’। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র কর। (সুরা বাকারা: ১২৫)
মসজিদ নির্মাণের সময় ইবরাহিম ও ইসমাইলের (আ.) দোয়ার কথা বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন,
وَ اِذۡ یَرۡفَعُ اِبۡرٰهٖمُ الۡقَوَاعِدَ مِنَ الۡبَیۡتِ وَ اِسۡمٰعِیۡلُ ؕ رَبَّنَا تَقَبَّلۡ مِنَّا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ رَبَّنَا وَ اجۡعَلۡنَا مُسۡلِمَیۡنِ لَکَ وَ مِنۡ ذُرِّیَّتِنَاۤ اُمَّۃً مُّسۡلِمَۃً لَّکَ ۪ وَ اَرِنَا مَنَاسِکَنَا وَ تُبۡ عَلَیۡنَا ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ رَبَّنَا وَ ابۡعَثۡ فِیۡهِمۡ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ یَتۡلُوۡا عَلَیۡهِمۡ اٰیٰتِکَ وَ یُعَلِّمُهُمُ الۡکِتٰبَ وَ الۡحِکۡمَۃَ وَ یُزَکِّیۡهِمۡ ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ
আর স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কাবার ভিতগুলো ওঠাচ্ছিল এবং বলছিল, হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। হে আমাদের রব, আমাদেরকে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরের মধ্য থেকে আপনার অনুগত জাতি বানান। আর আমাদেরকে আমাদের ইবাদাতের বিধি-বিধান দেখিয়ে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের রব, তাদের মধ্যে তাদের থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করুন, যে তাদের প্রতি আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে আর তাদেরকে পবিত্র করবে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা বাকারা: ২৭-২৯)
সুরা হজে নবি ইবরাহিমকে (আ.) মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার কথা বর্ণনা করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ اِذۡ بَوَّاۡنَا لِاِبۡرٰهِیۡمَ مَکَانَ الۡبَیۡتِ اَنۡ لَّا تُشۡرِکۡ بِیۡ شَیۡئًا وَّ طَهِّرۡ بَیۡتِیَ لِلطَّآئِفِیۡنَ وَ الۡقَآئِمِیۡنَ وَ الرُّکَّعِ السُّجُوۡدِ
আর স্মরণ কর, যখন আমি ইবরাহিমকে সে ঘরের (বায়তুল্লাহ) স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, আমার সাথে কাউকে শরিক করবে না এবং আমার ঘরকে পাক সাফ রাখবে তাওয়াফকারী, রুকু-সিজদা ও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়কারীদের জন্য।
মসজিদ নির্মাণ ও আবাদ মুমিন-মুত্তাকিদের কাজ
সুরা তাওবায় আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআলা মসজিদকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে মসজিদ নির্মাণ ও আবাদকারীদের নেক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন,
اِنَّمَا یَعۡمُرُ مَسٰجِدَ اللّٰهِ مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ اَقَامَ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَی الزَّکٰوۃَ وَ لَمۡ یَخۡشَ اِلَّا اللّٰهَ فَعَسٰۤی اُولٰٓئِکَ اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُهۡتَدِیۡنَএকমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ইমান রাখে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা বাকারা: ১৮)
মসজিদে কুবা নির্মাণ ও আবাদকারীদের প্রশংসা
সুরা তাওবায় মসজিদে কুবা নির্মাণ ও আবাদকারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَمَسۡجِدٌ اُسِّسَ عَلَی التَّقۡوٰی مِنۡ اَوَّلِ یَوۡمٍ اَحَقُّ اَنۡ تَقُوۡمَ فِیۡهِ فِیۡهِ رِجَالٌ یُّحِبُّوۡنَ اَنۡ یَّتَطَهَّرُوۡا وَ اللّٰهُ یُحِبُّ الۡمُطَّهِّرِیۡنَ যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার ওপর, তোমার নামাজে দাঁড়ানোর জন্য সেটাই অধিক উপযুক্ত, সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন। (সুরা তাওবা: ১০৮)
মসজিদ সমুন্নত করার নির্দেশসুরা নুরে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআলা মসজিদকে মর্যাদায় সমুন্নত করার ও মসজিদে তার নাম স্মরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মসজিদে ইবাদতকারীদের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ বলেন,
فِیۡ بُیُوۡتٍ اَذِنَ اللّٰهُ اَنۡ تُرۡفَعَ وَ یُذۡکَرَ فِیۡهَا اسۡمُهٗ ۙ یُسَبِّحُ لَهٗ فِیۡهَا بِالۡغُدُوِّ وَ الۡاٰصَال رِجَالٌ لَّا تُلۡهِیۡهِمۡ تِجَارَۃٌ وَّ لَا بَیۡعٌ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ اِقَامِ الصَّلٰوۃِ وَ اِیۡتَآءِ الزَّکٰوۃِ ۪ۙ یَخَافُوۡنَ یَوۡمًا تَتَقَلَّبُ فِیۡهِ الۡقُلُوۡبُ وَ الۡاَبۡصَارُ যেসব গৃহকে মর্যাদায় সমুন্নত করতে এবং তাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এমন ব্যক্তিরা যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয় বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখেনা, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। (সুরা নুর: ৩৬, ৩৭)
মসজিদে এক আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ
মসজিদ শুধু আল্লাহর জন্য উল্লেখ করে মসজিদে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতে নিষেধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَّ اَنَّ الۡمَسٰجِدَ لِلّٰهِ فَلَا تَدۡعُوۡا مَعَ اللّٰهِ اَحَدًا
নিশ্চয় মসজিদগুলো শুধু আল্লাহর জন্য, কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না। (সুরা জিন: ১৮)
এ আয়াতগুলো ইসলামে মসজিদের গুরুত্ব ও ফজিলত বোঝার জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া বহু হাদিসে মসজি
দ নির্মাণ ও মসজিদে ইবাদতের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
মসজিদ হলো মুসলিম সমাজের মূলকেন্দ্র। এ কারণে রাসুল (সা.) হিজরতের প্রথম দিনই মসজিদ নির্মাণের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। মদিনায় হিজরতের সময় যাত্রাবিরতিকালে তিনি কুবা নামক স্থানে ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে মদিনায় পৌঁছে তিনি মসজিদ-ই-নববী স্থাপন করেন। এবং সেখান থেকেই ইসলামের জ্যোতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন।
اِنَّمَا یَعۡمُرُ مَسٰجِدَ اللّٰهِ مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ اَقَامَ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَی الزَّکٰوۃَ وَ لَمۡ یَخۡشَ اِلَّا اللّٰهَ فَعَسٰۤی اُولٰٓئِکَ اَنۡ یَّکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُهۡتَدِیۡنَ
মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকারীদের মহান আল্লাহ ভীষণ পছন্দ করেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারাই তো আল্লাহর মসজিদের আবাদ করবে, যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি, সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা হবে সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১৮)
مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ تَعَالَى - يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ - بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ "
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৫০)
তাছাড়া মসজিদ নির্মাণ এমন একটি পুণ্যময় কাজ, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। যত দিন সেই মসজিদে আল্লাহর ইবাদত হবে, তত দিন নির্মাণকারী এর সওয়াব পেতে থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সাত ধরনের আমলের প্রতিদান মৃত্যুর পর কবরেও জারি থাকে। ১. যে ব্যক্তি কাউকে দ্বিনি ইলম শিক্ষা দেবে। ২. যে নদী প্রবাহিত করতে সহযোগিতা করবে। ৩. অথবা কূপ খনন করবে। ৪. অথবা গাছ রোপণ করবে। ৫. অথবা মসজিদ নির্মাণ করবে। ৬. অথবা কোরআন বিতরণ করবে। ৭. অথবা সুসন্তান রেখে যাবে যে তার মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করবে। (আল বাহরুজ জাখখার : ১৩/৪৮৪)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، وَقَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, মসজিদ নির্মাণ অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাধ্যম। কিন্তু শর্ত হলো, এতে কোনো রকমের অহমিকা, গৌরবের বিষ অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে সমাজে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা যাবে না। মসজিদ নির্মাণ করতে হবে, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মসজিদ নিয়ে অহংকার করা কিয়ামতের আলামত। লোকেরা মসজিদ নিয়ে পরস্পর গৌরব ও অহংকারে মেতে না উঠা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৪৯)
তাই আমাদের উচিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মসজিদ নির্মাণ করা। কারো সেই সামর্থ্য না থাকলে কমপক্ষে সহযোগিতা করবে। মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে আত্মনিয়োগ করবে। মসজিদকে সর্বদা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় করে রাখবে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ করার এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৫৫)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ " .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সমস্ত 'আমাল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার 'আমাল ছাড়া। ১. সদাকাহ্ জারিয়াহ্ অথবা ২. এমন 'ইল্ম যার দ্বারা উপকার হয় অথবা ৩. পুণ্যবান সন্তান যে তার জন্যে দু’আ করতে থাকে।
নামাজের উদ্দেশ্যে ঘরে থেকে বের হয়ে মসজিদে দিকে হেঁটে যেতে যেতে চমৎকার একটি দোয়া পড়তেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার এ দোয়ায় আবেদনগুলো ছিল হৃদয়গ্রাহী ও অনেক উপকারী। দোয়াটি হলো :
اَللهُمَّ اجْعَلْ فِىْ قَلْبِىْ نُوْراً وَفِىْ لِسَانِىْ نُوْراً وَاجْعَلْ فِىْ سَمْعِىْ نُوْراً وَاجْعَلْ فِىْ بَصَرِىْ نُوْراً وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِىْ نُوْراً وَمِنْ أَمَامِىْ نُوْراً وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِىْ نُوْراً وَ مِنْ تَحْتِىْ نُوْراً اَللهُمَّ أَعْطَنِىْ نُوْراً
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার অন্তরে আলোর ব্যবস্থা করে দাও; আমার জিহ্বায় আলো দাও; আমার কানে আলো দাও; আমার চোখে আলো দাও; আমার পেছনে আলো দাও; আমার সামনে আলো দাও; আমার উপর থেকে আলো দাও; আমার নিচ থেকে আলো দাও। হে আল্লাহ! আমাকে আলো দান করো।’
সাগরের কোলঘেঁষা এক মায়াবী মসজিদের গল্প
বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মসজিদ রয়েছে। তবে এর মধ্যে অল্পসংখ্যক মসজিদই আছে যেগুলো নির্মাণ এবং স্থাপত্যশৈলীতে নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। এদের কোনোটি ঐতিহাসিক কারণে বিখ্যাত, আবার কোনোটি অত্যাধুনিক নকশা এবং নির্মাণসামগ্রীর কারণে আলোচিত। তেমনই এক বিখ্যাত মসজিদ হাসান আল-থানি। একে দ্বিতীয় হাসান মসজিদ বলেও ডাকা হয়। লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ
নির্মাণের ইতিহাস
আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কা শহরে অবস্থিত এই মসজিদ। এটি মরক্কোর সবচেয়ে বড় মসজিদ। সমুদ্রের কোলঘেঁষে সুউচ্চ মিনারসহ এই মসজিদটি তৈরি করেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের বাবা দ্বিতীয় হাসান। তাই এতে দ্বিতীয় হাসান মসজিদ বলেও ডাকা হয়। মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। যদিও ১৯৬১ সালে মরক্কোর পঞ্চম রাজা মোহাম্মদের মৃত্যুর পরপরই এটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এরপর ১৯৮৯ সালে এটি উদ্বোধনের কথা থাকলেও নানান কারণে তা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।
মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কা অনেক বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক একটি শহর। এই শহরের বেশিরভাগ স্থাপনা সাদা হলেও এই মসজিদের ইমারতগুলো লালচে। রাজা চেয়েছিলেন এমন একটি স্থাপনা তৈরি করতে যেটা কিনা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যেটা হবে ল্যান্ডমার্ক। শহরের যে কোনো জায়গা থেকেও সেটা দেখা যাবে। আর সেই চিন্তা থেকেই নির্মাণ করা হয় এই মসজিদটি। আর সেভাবেই এই মসজিদের নকশা করা হয়। নকশা করেন বিখ্যাত ফরাসি স্থপতি মিশেল প্যাঁসো যিনি সেই সময় মরক্কোতেই থাকতেন। এটি নির্মাণে কাজ করেছেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিসের প্রকৌশলীরা।
জনগণের অনুদান
এই মসজিদটি ছিল মরক্কোর ইতিহাসে সব থেকে ব্যয়বহুল মসজিদ। আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছিল ৫৮৫ মিলিয়ন ইউরো। তবে এই পরিমাণ অর্থ দেওয়া দেশটির সরকারের পক্ষে ছিল অসম্ভব। কিন্তু মসজিদ তো নির্মাণ করতেই হবে। কী করা যায়! অবশেষে দেশের জনগণের কাছে চাওয়া হলো সাহায্য। আর যারা এই মসজিদে অনুদান দেবেন তাদের দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি করে রসিদ। ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়া হয় একটি করে সার্টিফিকেট। সাহায্য চাওয়ার পর ১ কোটি ২০ লাখ লোক অনুদান দেন মসজিদ নির্মাণে। আর এতে করে যে পরিমাণ অর্থের দরকার ছিল তার অনেকটাই সংগ্রহ করা হয়ে যায়। কিন্তু তখনো ছিল অনেক পথ বাকি। এবার এগিয়ে আসে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আরব রাষ্ট্রগুলোও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। সবার সাহায্য আর অনুদানে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে নির্মিত হয় এই মসজিদ। মসজিদটির তিনভাগের দুই ভাগ রয়েছে স্থলভাগে আর একভাগ সাগরের পানিতে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মসজিদটি দুলছে। আর মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন পানির ওপর। আর এই কারণেই একে বলে ভাসমান মসজিদ।
সর্বোচ্চ মিনার
বিখ্যাত এই মসজিদকে সর্বোচ্চ মিনারের মসজিদও বলা হয়। অনেক দূর থেকেই যেন সবার নজর কাড়ে এমন চিন্তা করেই এই মিনার তৈরি করা হয়েছে। অপূর্ব কারুকার্য-শোভিত এই মিনারের উচ্চতা ৬৯০ ফুট। যা কিনা ৬০ তলা বিল্ডিংয়ের সমান উঁচু। মসজিদের মিনারটি বর্গাকৃতির। সবুজের প্রাধান্য আছে এমন ক্রোমিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে মিনারে। এর ফলে মসজিদটি হয়ে উঠেছে অদ্ভুত সুন্দর। ব্যবহার করা হয়েছে ভিন্নধর্মী সবুজ টাইলস। রোদ আর সাগরের পানির মিশেলে এই সবুজ রং কখনো গাঢ় সবুজ, কখনো ফিরোজা, কখনো নীলচে রঙে বদলে যায়। বলা হয়ে থাকে এই মিনার তৈরিতে স্থপতি সমুদ্রের ফেনার জন্য সবুজ এবং আকাশের মতো বিশালতার নীল ব্যবহার করেছেন যা কিনা রাজার বিলাসবহুল জীবনের প্রতীকও। মিনারটির চূড়ায় রয়েছে একটি লেজার বিম। যার আলো বিচ্ছুরিত হয় পবিত্র কাবাঘরের দিকে। সমুদ্রে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজ সেই আলোকরশ্মি ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখতে পান। এত উঁচু যে মিনার সেটা ঝড় বাতাসে ভেঙে যায় না? এমন প্রশ্ন অনেকেরই মনে আসা স্বাভাবিক। কিন্তু যিনি স্থপতি তিনি এই সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যবহার করেছেন বিশেষ এক ধরনের কংক্রিট। যা সাধারণ কংক্রিটের থেকেও বেশি শক্তিশালী। এর ফলে শুধু ঝড় কেন ভূমিকম্পেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে এই মিনার।
খুলে যায় ছাদ
মসজিদের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত এর উচ্চতা ৬৫ মিটার। মসজিদটির মাটির নিচে রয়েছে ওজু করার জায়গা। মসজিদের কেন্দ্রীয় হলটির ছাদের পরিধি ৩,৪০০ বর্গ মিটার। কিন্তু এই ছাদের রয়েছে এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য। মসজিদের এই ছাদটি আলো-বাতাস চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। ৩,৪০০ বর্গ মিটার আকারের এই ছাদটির ১,৭৫০ বর্গ মিটারই উন্মুক্ত হতে পারে। ১,১০০ টন ওজনের এই ছাদটি খুলে যেতে সময় নেয় মাত্র পাঁচ মিনিট। তবে যখন ঝড় কিংবা বৃষ্টি হবে তখন ছাদটি বন্ধই থাকবে। ছাদটি যখন বন্ধ থাকে তখন ভেতরের অংশ আলোকিত হয় ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি দিয়ে। দিনের বেলায় চাইলে সূর্যের আলোয় বা পূর্ণিমা রাতের মোহনীয় পরিবেশে যাতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেন তার জন্যই এই ব্যবস্থা। তেত্রিশ ফুট সামুদ্রিক ঢেউ সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে মসজিদটির। নির্মাণ কৌশলের গুণের কারণে মসজিদের ভেতর থেকে সমুদ্রের কোনো গর্জনও শোনা যায় না।
অমুসলিমরাও যেতে পারবেন মসজিদে
মরক্কো ভ্রমণে কেউ গেলে এই মসজিদে একবার ঢুঁ মেরে আসেন অনেকেই। মুসলিম বিশ্বের সর্ব পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এই মসজিদটি এখন হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এক জায়গা। এই মসজিদে অমুসলিমদের জন্যও রয়েছে প্রবেশের সুযোগ। তবে তিনি সেখানে একা প্রবেশ করতে পারবেন না। টিকিট কেটে স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডের সাহায্য নিয়ে প্রবেশ করতে হবে সেখানে। অমুসলিদের জন্য দিনের মধ্যে কয়েকটি সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেই সময় ছাড়া তারা প্রবেশ করতে পারবেন না। মসজিদের আশপাশে এবং পুরো শহরজুড়েই গড়ে উঠেছে ট্যুরিজম ব্যবসা। কেউ যদি মনে করে তাহলে সে বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকেই গাইড নিতে পারবে। তাছাড়া মসজিদের ভেতরেও রয়েছে গাইড। তবে মসজিদে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই শালীন পোশাক থাকা বাঞ্ছনীয়। মেয়েদের স্কার্ফ বা হিজাব পরা বাধ্যতামূলক না তবে তাদের হাঁটু ও হাতের কনুই পর্যন্ত ঢাকা থাকতে হবে। বিভিন্ন দেশের হোটেল রুমে যেমন অফার দেওয়া হয়, সি ভিউ, হিল ভিউ পাওয়া যাবে। তেমনি ক্যাসাব্লাঙ্কার হোটেলগুলোতে অফার দেওয়া মসজিদের মিনারের অপরূপ দৃশ্য দেখা যাবে তাদের হোটেল রুম থেকে। আর সেই রুমগুলোর ভাড়াও অন্য রুমগুলো থেকে বেশি।
নির্মাণশৈলী
বিশাল এই মসজিদটি ২২.২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত। মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গেই রয়েছে লাইব্রেরি, কোরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা ও কনফারেন্স রুম। ২৫০০ পিলারের ওপর স্থাপিত এই মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। কোথাও কোথাও আবার সোনার পাত দিয়ে মোড়া। মসজিদ এলাকার আশপাশে সাজানো রয়েছে ১২৪টি ঝরনা। রয়েছে ৫০টি ঝাড়বাতি। সমুদ্রের ঢেউ থেকে রক্ষায় এর দু’পাশে তৈরি করা হয়েছে ৩৩ ফুট উচ্চতার দুটি বাঁধ। মসজিদের দেয়ালগুলোতে মার্বেল পাথর বসিয়ে বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে গ্রানাইট, প্লাস্টার, মার্বেল, কাঠসহ নানান উপকরণ। এসব উপকরণের বেশিরভাগই সংগ্রহ করা হয়েছে মরক্কো থেকে। তবে কিছু ইতালীয় গ্রানাইটও রয়েছে। মসজিদটির বাইরের প্রাঙ্গণ টাইটানিয়াম, ব্রোঞ্জ এবং গ্রানাইট দ্বারা তৈরি। তাছাড়া নীল রঙের মার্বেল পাথর ও নীল টাইলের ছোঁয়াও রয়েছে সেখানে। মসজিদের নিচে রয়েছে অজুখানা। সেই অজুখানাও অদ্ভুত সুন্দর নকশার।
ইসলামি ক্যালিগ্রাফি ও নকশা
ছয় হাজার কারিগর পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমে ইসলামি ক্যালিগ্রাফি ও বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন মসজিদটিতে। কারিগররা এমনভাবে হলরুমের কারুকাজ ফুটিয়ে তুলেছেন, যেটি কাছ থেকে না দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, এটি কতটা নিখুঁতভাবে করা হয়েছে। বিশেষ করে এর ফ্লোর ও ছাদের নকশা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে। মসজিদটির প্রধান নামাজ ঘরে রয়েছে মহিলাদের জন্য নামাজের সুব্যবস্থা। এই মসজিদের যে মূল হলরুমটি রয়েছে তা আয়তাকার। ৬৬০ ফুট লম্বা আর ৩৩০ ফুট চওড়া। এখানে নামাজ পড়তে পারে এক সঙ্গে ২৫ হাজার মানুষ। আর মসজিদের বাইরে ৮০ হাজার লোক নামাজ পড়তে পারে। মসজিদটির হলরুমটির ছাদ রয়েছে ৭৮টি বিশাল স্তম্ভের ওপর। মসজিদটির আকার এত বিশাল যে, এটি পরিষ্কার করার জন্য প্রতিদিন দুইশো লোকের প্রয়োজন হয়। নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনও বন্ধ থাকেনি এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
লাইব্রেরি ও জাদুঘর
এই মসজিদ এলাকার মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে বিশাল এক লাইব্রেরি। যাতে একসঙ্গে ৮৬০ জন লোক বসতে পারবেন। এখানে বসে চাইলে যে কেউ গবেষণার কাজও চালিয়ে নিতে পারবেন। রয়েছে ১০৭টি ওয়ার্ক স্টেশন। লাইব্রেরিতে রয়েছে ইসলামিক চিকিৎসা, ইতিহাস, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় দুই লাখ বই ও দলিল। তিন তলা এই লাইব্রেরিতে শিশুদের জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।
এই মসজিদে রয়েছে একটি জাদুঘরও। দর্শনার্থীরা যেখান থেকে টিকিট কেটে মসজিদে প্রবেশ করেন ঠিক তার পাশেই রয়েছে এই জাদুঘর। যদিও সেটি খুব বেশি বড় নয়। তবু এটা সব দর্শনার্থীর কাছে খুবই জনপ্রিয়। এই জাদুঘরে প্রবেশের জন্য কোনো ধরনের ফি দিতে হয় না। এই মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস, এর নির্মাণশৈলী, হলরুম, মিনার ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া রয়েছে সেখানে।
সংস্কার
মসজিদটি নির্মাণের পর মাত্র একবার সংস্কার করা হয়েছে। সেটা ২০০৫ সালে। সাগরের বুকে যে অংশটি ছিল সেটার কংক্রিটের বিমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নোনা পানির কারণে। আর এ কারণেই সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়। ছিদ্রযুক্ত কংক্রিটের মধ্য দিয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে ইস্পাতগুলোতে মরিচা পড়ে যাচ্ছিল। এরপর প্রায় তিন বছর গবেষণা করে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় তার সমাধান বের করেছিল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য নকশার বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছিল।