☉ যারা কাজ করতে ক্ষেতে নামে, তাদের পায়েই কাদা লাগে। তেমনি যারা কাজ করে, তাদেরই ভুল হয়। আমাদেরও ভুল ছিল। আছে।
☉ সব পাখিকে মানুষ খাঁচায় বন্দি করে না। যে পাখির কণ্ঠ সুন্দর, কথা বলে, তাকেই মানুষ বন্দি করে। কাউয়াকে কখনো খাঁচায় ভরতে দেখেছেন?
☉ স্বর্ণ সেটাই অলঙ্কার হয়, সুন্দরী নারীর কানে, নাকে, গলায় ওঠে, যেটাকে আগুনে পোড়ানো হয়। পুড়িয়ে নিখাদ করা হয়।
☉ আমরা যা কামনা করি, আল্লাহ তারচেয়েও ভালো চান। আমি যদি আগেরবার জামিন হওয়ার পর বের হতাম, অনেক রেস্ট্রিকশন ও মুচলেকা দিয়ে আসতে হত। কিন্তু এখন স্বাধীনভাবে চলে এসেছি।
☉ আমাদের এখন কাজ করার সুযোগ এসেছে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত। কে কোন মানহাজের সেদিকে খেয়াল না করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার সময় এখন।
☉ আমাদের মানহাজ আমাদের কাছে স্পষ্ট। তাই বলে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় বা মানহাজে যারা দ্বীনের কাজ করছেন, আমরা তাদের বিরোধিতা করব না। তাদের ব্যাপারে কড়াকড়ি করব না। প্রশ্ন হতে পারে আপনিই তো বেশি কড়াকড়ি করেছেন, হ্যাঁ। সেটা আমার ভুল ছিল। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই। শুরুতেই বলেছি, যে কাজ করে তারই ভুল হয়।
☉ আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. তাকে গড়েছেন আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. উনি আবার হযরত হুসাইন আহমদ মাদানীর রহ. ছাত্র।
☉ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. ইংরেজদের গুলির সামনে নিজের শেরওয়ানি খুলে বুকটান করে ২ ঘণ্টা বক্তব্য দিয়েছিলেন। যারা অস্ত্র তাক করেছিল, তাদের হাত কেঁপে পড়ে গেছে। উনারা আমাদের আকাবির।
☉ আমরা আসমান থেকে কিছু পাইনি। যা পেয়েছি সব আমাদের উস্তাদদের অবদান। বিশেষকরে "করিবুল ওয়াক্ত" (নিকটবর্তী সময়ের) আকাবিরদের অবদান স্বীকার করেই আমাদের কাজ করতে হবে।
☉ কাউকে তাকফির করতে হলে আগে দেখতে হবে লাওয়াযিমে তাকফির আছে কিনা, থাকলে তারপর দেখতে হবে কোন মাওয়ানিয়ে তাকফির আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে তাকফিরে আম্মাহ করা যাবে। শখসকে করা যাবে না।
☉ মাওয়ানিয়ে তাকফির চারটি— জাহল, ইকরাহ, তাবিল, খাত্বানিসইয়ান।
☉ শাইখুল হাদীস রহ. ছাত্রদেরকে এই শেরটি বারবার বলতেন, ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেছেন—
يا طالِبي عِلم النَبِيِّ مُحَمَّدٍ
ما أَنتُم وَسِواكُمُ بِسَواءِ
অর্থ: "হে ইলমে নবুওতের অন্বেষী, তোমরা আর অন্যরা সমান নও।" এজন্য আমাদের নিজেদের পরিচয় ও মর্যাদা উপলব্ধি করতে হবে।
