কেউ লন্ডন বসে বিশ্বাসের বহুবচন লিখুক আর অবিশ্বাসের একবচন লিখুক তাতে কিছু যায় আসেনা। কেউ ফেনী থেকে হেফাজত বিক্রির প্রশ্ন তুলুক অথবা কেউ শুকরানার দোয়াই দিয়ে সরকারের সাথে সুসম্পর্কের বানোয়াট গল্প বুনুক তাতেও কিছু যায় আসেনা। আমিও ফেনী হেফাজতেরই একজন একনিষ্ঠ কর্মী। আমি আমার দেখা হেফাজতকে চিনতে চাই, চিনিয়ে দিতে চাই।
হেফাজত একটি মহাসাগরের নাম। এ মহাসাগরের মিঠাপানি মুমিন হৃদয়ে ইমাণের সেচ দিয়েছে। অসহায় উম্মাহর জাগরণ তুলেছে। সংগ্রামী মুসলিম জনতার ঈমাণ তাজা করেছে। পুরো বাংলাকে ধুয়ে পরিশুদ্ধ করেছে। একমুখী বাংলাকে অন্যমুখে পরিচালনা করেছে। শাহবাগকে শাপলায় এনেছে। ইসলামকে পুনঃ সতেজ করেছে পুরো বাংলায়। হেফাজতের অবদান শুধুমাত্র আন্দোলনমুখী নয়; হেফাজত আশার আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলো বাংলার তৌহিদি জনতার হৃদয়ে হৃদয়ে। ৬৮হাজার গ্রামের লাখো লাখো মিম্বরে ধ্বণিত হয়েছে হেফাজতের আওয়াজ। "বাঁচাও ঈমান, বাঁচাও দেশ; আহমদ শফির নির্দেশ" শ্লোগানে কেঁপে উঠেছিলো আমার প্রিয় বাংলাদেশ। এর রেশ এতো সহজেই শেষ? অসম্ভব।
হ্যা সাগরে শুধুমাত্র উপকারী জিনিষই থাকেনা। বিষাক্ত ক্ষতিকর দংশনকারীরাও অন্যদের সাথে মিশে থাকে। কিছু সময় তারা ক্ষতির মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। হেফাজতেও তাই ছিলো। তাই করেছিলো। হয়তো আছেও কিন্ত হাতেগোনা সে বিষাক্ত পোকামাকড় আর অবিশ্বাসীগুলোর জন্য যে পুরো হেফাজতকে নির্জীব ভাবে উপরোক্ত বিষয়গুলো যে অনুধাবন করতে পারেনা; তার একটি সমাজকে ভেতর থেকে দেখার শক্তি হয়নি। তার চিন্তার শক্তি কেবল মাত্র দৃশ্যপটকেন্দ্রীক। আর দৃশ্যপটকেন্দ্রীক চিন্তার ফল সময়ের সাথে সাথে বদলে যায়। বদলাবেই।
হেফাজতের সাথে সরকারের সুসম্পর্কই যদি থাকে। যদি বেচা-কেনার প্রশ্নই উঠে তবে হেফাজত নেতারা জেলে কেন????? কেন বাবুনগরীকে দুয়া করতে হয় "কাগজে সাইন করার আগে আমাকে উঠিয়ে নেয়া হোক" কেন তাগুতি আযাব নেমে আসে হেফাজতের উপর? কেন পুলিশি হেফাজতে লাশ হয় হেফাজত নেতা? কেন লাশের পর লাশ পড়ে হেফাজতের মিছিলে? কেন ধুকে ধুকে জেলের প্রকোষ্ঠে মরছে হেফাজত নেতারা? কেন রাষ্ট্র সর্বচ্চ চাপ প্রয়োগ করে পুরো কমিটি বিলুপ্ত করতে বাধ্য করলো? কেন????
বিচার!
বিচারাকাঙ্ক্ষীদের তাচ্ছিল্য করে কথা বলা মানেই শহিদের রক্তের সাথে গাদ্দারী করা। ভাইয়ের শাহাদাতের সাথে বেঈমানি আর উপহাস করা। কোন ভাই যদি না বুঝে করেন; তবে সামনে থেকে সতর্ক থাকার আকুতি জানাই। আর বুঝে করলে তাকে মুনাফিকদের অনুসারী বলতে আপত্তি নেই।
মনে রাখা চাই হেফাজত এক রক্তগঙ্গা পাড়ি দিয়ে এসেছে। আমি কোরআন বুকে আমার ভাইয়ের কান্না দেখেছি। আমি তাসবীহ হাতে ইমাম সাহেবকে বুটের লাথি খেতে দেখেছি। মিষ্টি নিয়ে শশুড় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ভাইকে গুলি খেয়ে থড়পড় করে রাস্তায় মরতে দেখেছি। হাতের মেহেদী শুকানোর আগে আমার বোনকে বিধবা হতে দেখেছি। পরীক্ষা শেষকরে বাড়িতে আসবে হাফেজ ছেলে; সেই ছেলেকে পুলিশের গুলিতে লাশ হতে দেখেছি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ভ্যান ড্রাইভার বাবা যখন রাসুলের ইজ্জতের হেফাজতের মিছিলে গিয়ে শহীদ হয়ে যায়; বাধ্যহয়ে ৫ জনের সংসার টানতে ১১বছরের সন্তানকে হেফজ ছেড়ে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়; সে দৃশ্যও দেখেছি...
দেখেছে আমার মতো লাখো হেফাজত কর্মী। কি মনেহয় সবাই ভুলেগেছে সবকিছু? প্রতিশোধের স্পৃহা লালন করা হেফাজত কর্মীরা তাদের ক্ষত লুকিয়ে রেখেছে; শুকিয়ে ফেলেনি। সুতরাং বিচার হবেনা বলে উড়িয়ে দিলেই সবকিছু উড়ে যাবেনা। বিচার হবে। বিচার বড় ভয়ংকর ভাবেই হবে ইনশাআল্লাহ....
আরে ৭২র নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, নিষিদ্ধ নেতা, আত্ম গোপনে থাকা ব্যক্তি যদি ২২এ এসে মন্ত্রী হতে পারে! তবে কীভাবে বলতে পারেন আগামী ৫০বছরে শাপলার বিচার কামী লাখো কর্মীর মধ্যে থেকে একজনকেও আল্লাহ ক্ষমতা দেবেননা? বিচার করতে একটি দল লাগেনা; তীব্র বাসনা লালন করা একজনই যথেষ্ট একটি বিজয় নিশান উড়ানোর জন্য। আমি বিশ্বাস করি ঐ একজন আল্লাহ তৈরি করবেন। হাজার হাজার মজলুমের চোখের পানি এমনি এমনি জামিনে মিশে শুকিয়ে যাবেনা; ইতিহাস ইতিহাসের প্রতিশোধ নিতে ফিরে আসবেই ইনশাআল্লাহ।
কোন নেতা যদি বিক্রি হয়েও যায়; আমরা কর্মীরা থাকবো। কোন নেতা যদি গাদ্দারী করেও আমরা কর্মীরা ভাইয়ের রক্তের সাথে বেঈমানি করবোনা ইনশাআল্লাহ। আমরা কখনোই আশাহত হইনা, তাই বলি আমাদের আশাহত হওয়ার সুযোগও নেই। আলহামদুলিল্লাহ।
