বর্ডার, চেকপোস্ট, কাঁটাতারের বেড়া এইসব জায়গাগুলো আমাকে একটু বেশিই টানে! বাংলাদেশের সাথে ইন্ডিয়ার অনেকগুলো সীমান্ত আছে। আমি আমার ভ্রমনজীবনে কাঁটাতারের পরিবর্বেতে বেশ কিছু বৈচিত্র্যময় সীমান্ত খেয়াল করতে পেরেছি। যখন রওমারী গেলাম, ইহসান ইবনে মাসউদ রংপুরী হযরতের বাসায়, তখন লক্ষ্য করলাম কাটা তারের এপাশে নদী দিয়ে সীমান্ত ভাগ হয়েছে। আবার যখন সিলেট জাফলং গেলাম, তখন দেখলাম পাহাড় দিয়ে সীমান্ত ভাগ হয়েছে। আজকের এই ভ্রমণে লক্ষ্য করলাম দিনাজপুর নীল ফামারী, রেললাইন দিয়ে সীমান্ত ভাগ হয়েছে । আমার অল্প কিছু ভ্রমণের অভিজ্ঞতার মধ্যে, সব গুলো জায়গাই ভালোলাগার। নতুন নতুন জায়গা দেখা আমার মনে হয় সবারই পছন্দের। আমিও এর ব্যাতিক্রম নই। আর এই পছন্দকে বাস্তবরূপ দিতে পেরেছি একান্তই আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য। এটা স্বীকার করা আর ধন্যবাদ দেয়া একান্তই গুরুত্বপূর্ণ। মাদ্রাসার মাহফিল দশ এ জানুয়ারি । সামনে ছাত্রদের বার্ষিক পরীক্ষা। দরসে নেজামীর কিতাব গুলোও খুব দ্রুতই শেষ করছিলাম । এমন সময় হঠাৎ ফোন আসে, আপনজনের মধ্যে কয়েকটি আকিকা এক সাথে হবে। জ্যোতি শশী আমিরুন নাহিনের। আর আমার থাকতেই হবে সেখানে। তাই মাদ্রাসায় বলে রওনা হলাম ঢাকার উদ্দেশে। বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে, দুলাভাইয়ের সাথে রওনা দেই চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে। আমাদের ছিটদুটো, বি আই পি কেভিন হওয়াই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এত আরামে পৌঁছে গেলাম। মনে হলো যেন অল্প সময়ে চিলাহাটি চলে আসছি। যাই হোক এক বছর পর মেঝোআপুর বাসায় গিয়ে সবার ভালোবাসা ও আন্তরিকতা দেখে আমি মুগ্ধ হলাম। দিনটা শুক্রবার হওয়াই গতবারের মত এবারও জুমা পড়ানোর সুযোগ হলো। নামাজ শেষে বাসায় এসে সংক্ষিপ্ত একটু দোয়ার পড়েই খাবারের আয়োজন। আলহামদুলিল্লাহ সব কিছুই যতেষ্ট ভালো ছিল। সারাদিনই লোকমুখে অনেক প্রসংসা। সবার জন্যই অবিরাম ভালোবাসা রইলো। প্রথম দিনটা এভাবেই কেটে গেল। আর দ্বিতীয় দিনটি আত্বীয় স্বজনের বাসায় যাওয়া, ও সীমান্ত সহ কিছু দর্শনীয় স্থান দেখা, বাইকে করে দুলাভাই ও বিয়াইয়ের এর সাথে ঘুরাঘুরী করা, ভালো ভালো খাবার খাওয়া, এগুলো করতে করতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। এখন নিজ গন্তব্যে পৌঁছার পালা, তাই বড় ভাইয়ের সাথে চিলাহাটি গিয়ে নীল সাগর ট্রেনে উঠে গেলাম। জয়দেবপুর পৌঁছে গেলাম পাঁচটার দিকে। এখান থেকে আবার বলাকার টিকেট কেটে অপেক্ষা করছিলাম ট্রেনের জন্য কনকনে বাতাসে। শীতের আদলে কুয়াশার বাদলে, ঝরে পড়া সব কাঠ বাদামের পাতায় জমে থাকা শিশির কনা এই বার্তা নিয়ে আসে যে এখন মধুময় শীতের আগমন ঘটেছে। সবুজ ঘাসের ওপর ভোরের সূর্যের আলো হালকা লালচে রঙয়ের আলো, দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রতিটি ঘাসের মাথায় যেন মুক্তোদানার মতো শিশির কণা জমে আছে। সকালবেলা শিশিরে ভেজা আর ঘন কুয়াশা চাদরে আবৃত শীতের সকালে মনে হয় যেন সব কিছুর সৌন্দর্য আরো বেড়ে গেছে। এই সফরটি লম্বা হলে হয়তো আরো অনেক কিছু জানা যেত। কিন্তু সময় এর কাছে মানুষ অসহায়। অবশেষে ট্রেন আসলো এখন আমি ময়মনসিংহ এর অভিমুখে। আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো লাগা নিয়ে ফিরেছি।
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
