ইতালির ভিসা এপয়েন্টমেন্ট লেটার জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে সিলেটে আমি। ফজর নামায পড়ে সকালে রওনা দেই ময়মনসিংহ তারাকান্দা মদিনা নগর দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা থেকে । সারা দিনের কাজ শেষ করে মাগরিব নামাযের পরে জামি‘আ দারুল উলূম মতিঝিল ওয়াপদা মাদ্রাসার উস্তাদের সাথে দেখা করে এবং নজরুল সাহেব হুজুরের রুমে রাতের ডিনার শেরে, ১১: ৪৫ বাজে মতিঝিল আরামবাগ থেকে গ্রীন লাইন বাসে উঠি। সিলেট কদমতলী বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে যায় সকাল ৬:৩০ টার দিকে তাঁর পর মির্জাজাঙ্গালিয়া রোড নির্বাণ ইন কমপ্লেক্স ইতালি ভিসা আবেদন কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেন বিজনেসম্যান শাহরিয়ার ভাই, ভিসা এপয়েন্টমেন্ট লেটার জমা দেওয়ার পাশের অফিসটাই তিনার অত্যান্ত ভালো মনের মানুষ তিনি , জোর করে আমার ভাড়াটাও দিয়ে দিলেন এবং তিনার নাম্বার দিয়ে বলেন যে কোন প্রয়োজনে কল দেওয়ার জন্য আমাকে না চিনেও আমার জন্য অনেক কিছু করলেন, যাই হোক আমার এপয়েন্টমেন্ট লেটারে যদিও ১১:৩০ এর টাইম দেওয়া ছিল তার পরেও ১০ টার বিতরেই এপয়েন্টমেন্ট লেটার জমার কাজটা শেরে ফেলি এবং শাহ জালাল ইয়ামিনি (রহ) এর মাজার ঘুরে সিলেট শহরের নামকরা “পানসি” রেস্তোরা থেকে নাস্তা সেরে বেলা ১২.৩০ এর মধ্যেই পৌঁছে যায় প্রকৃতিকন্যায়! এখানে যাওয়ার পথে আরেক ভাই জোর করে আমার ভাড়াটা দিয়ে দিলেন একেক জনের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছেলো সবাই আমার আপনাজন তিনি এখানে এক কলেজের প্রফেসর অথচ তাকে আগে কোন দিন দেখি নাই আমার পরিচিতও না তাছাড়া এই সিলেটে আসা এইটা আমার জীবনের প্রথম ছিল, তিনি আমাকে অনেক কিছুই ঘুরে দেখালেন এবং বলে দিলেন বাকি গুলো কিভাবে দেখবো, সবই আমার মাওলার ইচ্ছা। যা কিছু দেখছিলাম সব কিছুই অসম্ভব সুন্দর। যেমনটা কল্পনা করেছিলাম, তার থেকেও সুন্দর।ডাউকি পাহাড় থেকে প্রবাহমান জলপ্রপাতের কলমর্মর, পিয়াইন নদীর মনমাতানো স্বচ্ছ পানি, শ্বেতপাথরের মোহনীয় রুপ মনকে যেন আকুল করে তোলে। পাহাড়ের উপর থেকে এসমস্ত কিছু যেনো রুপকথার গল্পে তুলে ধরা কাল্পনিক রুপকেও হার মানায়। জাফলং এর রূপ দেখে মনে হয় প্রকৃতিকন্যা যেন রূপের পসরা নিয়ে বসে আছে । যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে একটু প্রশান্তির জন্য অনেকেই আসেন এখানে ভ্রমনপিপাসুদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা,সিলেটে এসে জাফলং না গেলে ভ্রমনটাই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
